সংস্কারের মাধ্যমেই নিউ মডেলের বাংলাদেশ সম্ভব- শিশির মনির
অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে আসা সংস্কার প্রস্তাবনা কার্যকরের মাধ্যমে নিউ মডেলের বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
গতকাল সোমবার (২০ জানুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারডিসিপ্লিনারি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কনসোর্টিয়ামের (আইআরডিসি) আয়োজনে "নাগরিক দায়িত্ব ও আইনের শাসন" শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “যেকোনো দেশের জন্য আইনের শাসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের গণতন্ত্রের গতি বৃদ্ধি পায়। আইনের শাসনে বিশ্বাস করলে রাষ্ট্রে অনৈতিক কর্মকাণ্ড রোধ করা সম্ভব। 'জনগণের ক্ষমতাই সবচেয়ে বড়'—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এই সত্য মেনে নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারকে আইনের শাসনে পরিচালিত করতে হলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন। জনগণ সচেতন না হলে আবারও অনৈতিক সরকারের অভ্যুত্থান ঘটতে পারে।”
শিশির মনির বলেন, “একজন শিক্ষককে যাচাই করবে ছাত্ররা। শিক্ষকদের চ্যালেঞ্জ করার মতো ছাত্র যেখানে থাকবে, সেখানে শিক্ষকরা অধিকতর সচেতন হবে। ছাত্রকে শিক্ষকের চেয়ে বেশি জানতে পারে। শিক্ষক-ছাত্র, আইনজীবী সবাইকে প্রশ্ন করতে হবে। আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিপক্ষে যদি ছাত্ররা না দাঁড়াতেন তাহলে আমরা এখন যা করছি কেউ তা করতে পারতাম না। তখন বুঝা যায়, সিটিজেনদের ক্ষমতা কোথায়?”
প্যানেল আলোচনায় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন বলেন, “নাগরিকের মধ্যে নৈতিকতা না থাকায় আইনের প্রতিফলন সমাজে আসেনি। আল্লাহ আমাদের সর্বোত্তম জাতি হিসেবে তৈরি করেছেন, কিন্তু আমাদের দায়িত্ব সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ পালন করতে পারেনি, যার কারণে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘ ১৫/১৬ বছর ফ্যাসিবাদকে প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো যদি আমরা সঠিকভাবে প্রতিবাদ করতাম।”
আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান সাদী বলেন, “এত বছর আইন প্রয়োগ করা হলেও মূলত দেশে সঠিক আইন ছিল না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মানবাধিকার ক্ষুন্ন করেছে, যা রাষ্ট্রের আইনি কাঠামোকে দুর্বল করেছে। প্রতিটি দেশের আইন তার নিজস্ব কালচার অনুযায়ী হওয়া উচিত। আমাদের দেশে গণতন্ত্র থাকলেও সঠিক নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার জরুরি, এবং এজন্য সংবিধান সংশোধন করা আবশ্যক। নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব বর্তমান সরকারকে সংস্কারে সহযোগিতা করে দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।”
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেজবাহ উল আজম সওদাগর বলেন, “আইনের শাসন না থাকলে ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও অযোগ্যতার ওপর সবকিছু নির্ভর করে। আমাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে, ব্যক্তি ক্ষমতা কমাতে হবে। তাহলেই আমরা এগিয়ে যেতে পারবো।”
অনুষ্ঠানটির শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইআরডিসির প্রেসিডেন্ট ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এবং সঞ্চালনা করেন আইআরডিসি এর জেনারেল সেক্রেটারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।