বৈধ বা অবৈধ পথে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় যেতে চাইছেন রোহিঙ্গারা
নিরাপদ প্রত্যাবাসন এখনও অমীমাংসিত থাকায় কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন রোহিঙ্গারা। নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা না থাকায় তারা তৃতীয় কোনো দেশে নিরাপদ জীবন গড়ার আশা করছেন। বৈধ বা অবৈধ যে কোনো পথেই হোক, উন্নত দেশে পুনর্বাসনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছেন সব বয়সের রোহিঙ্গারা।
কিছু শরণার্থী জানিয়েছেন, তারা সন্তানদের ভালো ভবিষ্যতের জন্য অস্ট্রেলিয়া, কানাডা বা আমেরিকায় যেতে চান। মিয়ানমারের ট্রমা আর অনিশ্চিত জীবন থেকে তারা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে আকৃষ্ট। শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় জানাচ্ছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিছু রোহিঙ্গা তৃতীয় দেশে পুনর্বাসিত হয়েছেন, তবে সংখ্যাটা খুব সীমিত।
শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “ফাস্ট ওয়াল্ডের উন্নত দেশে যাওয়া রোহিঙ্গাদের স্বাভাবিক চাওয়া। তবে বাস্তবতা হলো, গত পাঁচ বছরে মাত্র পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা পুনর্বাসিত হয়েছেন। এখানে ১২ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করছে এবং প্রতিদিন অন্তত ১০০ শিশুর জন্ম হচ্ছে। এটি সমাধান প্রায় অসম্ভব।”
কানাডা, নিউজিল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশে মোট ৪৮৯৭ রোহিঙ্গা পুনর্বাসিত হয়েছে। নিরাপদ প্রত্যাবাসন সম্ভব হলে এদের অনেকেই নিজ দেশে ফিরে যেতে চান। কানাডায় পুনর্বাসিত মো. ইসমাইল বলেন, “যদি শান্তিপূর্ণভাবে আরাকানে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকে, সবাই চলে যাবে। আমরাও চাইলে ফিরে যাব। কিন্তু রাখাইনে এখনো সবাই সেনা ও আরাকান আর্মির চাপে আছে, তাই আরাকানে যেতে চাচ্ছে না।”
বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের ৩৩টি ক্যাম্পে বসবাস করছেন। প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনের অনিশ্চয়তার কারণে মাঝে মাঝে তারা অবৈধ পথে পালানোর চেষ্টা করছেন, যা সংবাদ শিরোনামেও উঠে আসে।