প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের সম্মানসূচক সামরিক পদক পেলেন বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তা
ফরাসি সরকার প্রথমবারের মতো একজন বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তাকে সম্মানসূচক সামরিক পদক ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স মেডেল – গোল্ড লেভেল’ প্রদান করেছে। বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জিন-মার্ক সেরে-শার্লেট মঙ্গলবার তার বাসভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আজহারুল ইসলামকে এ সম্মাননা তুলে দেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ পদক প্রদান করা হয়েছে। প্রথম বাংলাদেশি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি এ সম্মান অর্জন করলেন।
আইএসপিআর জানায়, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজহার ২০২২-২৩ সালে কর্নেল পদে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (মিনুসমা)-এর ফোর্স হেডকোয়ার্টারে ডেপুটি চিফ অব স্টাফ (সাপোর্ট) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে তিনি বিভিন্ন দেশের ১৩ হাজারের বেশি শান্তিরক্ষীর লজিস্টিকস ও সাপোর্ট কার্যক্রম দক্ষভাবে পরিচালনা ও সমন্বয় করেন।
২০২২ সালে ফরাসি বাহিনীর ‘বারখান’ অভিযান মালি থেকে নাইজার ও চাদে পুনর্বিন্যাসের ফলে মালির উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি ক্যাম্প জাতিসংঘ মিশনের অধীনে আসে। এই জটিল ও সংবেদনশীল পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজহারের নেতৃত্বে লজিস্টিকস টিম নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে ফরাসি কন্টিনজেন্টের নিরাপদ প্রত্যাহার এবং জাতিসংঘ সদস্যদের নতুনভাবে মোতায়েন নিশ্চিত করে।
পরবর্তী সময়ে, ২০২৩ সালে মালি থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হলে মাত্র ছয় মাসে তার নেতৃত্বাধীন লজিস্টিকস টিম সফলভাবে সব সদস্য এবং ব্যবহৃত অস্ত্র-সরঞ্জাম নিরাপদে দেশে ফেরত পাঠায়। পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনার মাধ্যমে এ চ্যালেঞ্জিং কাজ তারা সম্পন্ন করেন।
আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা অভিযানে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজহার সুদান, আইভরি কোস্ট, সোমালিয়া ও সর্বশেষ মালিতে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শান্তিরক্ষা মিশনে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিতেই ফরাসি সরকার তাকে এ সম্মাননা প্রদান করেছে।