সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের আমান বেড়ে ১২৭৬৩ কোটি টাকা

  নতুন ধ্বনি ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সন্ধ্যা ০৬:১৫, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩
  • ২০২৫ সালে ৮৩.৪২ কোটি ফ্রাঁ 
  • ২০২৪ সালে ৫৮.৯৫ কোটি ফ্রাঁ
  • ২০২৩ সালে ১. ৭৭ কোটি ফ্রাঁ
  • ২০২২ সালে ১৯.৩৪ কোটি ফ্রাঁ 
  • ২০২১ সালে ৮৭.১১ কোটি ফ্রাঁ।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথ্য সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকে (এসএনবি) ২০২৫ সালে বাংলাদেশি ব্যক্তি ও ব্যাংকগুলোর জমা অর্থ ৪১ শতাংশ বেড়ে ৮৩ কোটি ৪২ লাখ সুইস ফ্রাঁ হয়েছে। প্রতি ফ্রাঁ ১৫২ টাকা ৯০ পয়সা হিসাব ধরে বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমান প্রায় ১২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। এটি এখন পর্যন্ত দেশটিতে বাংলাদেশীদের আমানতের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থান। কেননা, এসএনবির বার্ষিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের ২০২১ সালে মোট আমানত ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। তবে ২০২৪ সালে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ। যা ২০২৩ সালে ছিল ১ কোটি ৭৭ লাখ ফ্রাঁ, ২০২২ সালে ১৯ কোটি ৩৪  লাখ এবং ২০২১ সালে ৮৭ কোটি ১১ লাখ ফ্রাঁ। গতকাল সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকাশিত বার্ষিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। 
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সিংগাপুর, মালয়েশিয়া, সাইপ্রাসসহ বিভিন্ন দেশে অবৈধ সম্পদ ফেরাতে হানা দেওয়া শুরু করেছে। এমন পদক্ষেপ আগেই উপলদ্ধি করে অনকে নিরাপদ ভেবে সুইস ব্যাংকে স্থানান্তর করেছে। কনেনা, এখন পর্যন্ত সুইস ব্যাংক কারো সম্পদ ফেরত দয়ে নি। সেজন্য নিরাপদ ভেবে কালো টাকার মালিক বাংলাদেশিরা সেখানে টাকা জমকা কৃরনা বৃদ্ধি করেছে। যদি কালো টাকা না হত তবে কনে পাশের দেশে এবং নিজ এত ব্যাংকে রাখথছেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া সব বিদেশি অর্থই কালো টাকা।  
প্রতিবেদন বলছে, ২০২৫ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের মোট আমানতের ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশই ছিল বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর অর্থ। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ। অথচ ২০২৩ সালে এটি ছিল মাত্র ২০ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ছিল ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত গ্রাহকদের হিসাবে থাকা আমানত প্রায় ১০ শতাংশ কমে ২০২৫ সালে ১ কোটি ১৪ লাখ সুইস ফ্রাঁতে নেমে এসেছে। আগের বছর এ পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২৬ লাখ সুইস ফ্রাঁ তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসব তথ্য ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকে জমা দেওয়া সরকারি হিসাব। ফলে এগুলো সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশিদের বহুল আলোচিত কথিত কালো টাকার প্রকৃত পরিমাণ নির্দেশ করে না।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, সুইজারল্যান্ড এখন অর্থ পাচারকারীদের গন্তব্য হিসাবে নরিাপদ। কিন্তু আকর্ষণীয় গন্তব্য নয়। বিকল্প হিসেবে বিশ্বের অনেক দেশ গড়ে উঠেছে। ক্নিুত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে যে পরমিান মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে, সেই তুলনায় সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকের জমা অর্থের পরিমাণ খুব বেশি নয়।
এসএনবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সুইস ব্যাংকে আমানতের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে রয়েছে ভারত। দেশটির ব্যক্তি ও ব্যাংকগুলোর মোট আমানত ছিল ৩২০ কোটি সুইস ফ্রাঁ। তবে আগের বছরের তুলনায় তাদের আমানত ৮ শতাংশ কমেছে। বাংলাদেশ ৮৩ কোটি ৪২ লাখ সুইস ফ্রাঁ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু এক বছরে বাংলাদেশের আমানত ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি হয়েছে আফগানিস্তানের। দেশটির আমানত ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। তবে মোট আমানতের পরিমাণ এখনও তুলনামূলকভাবে কম, মাত্র ৪৭ লাখ সুইস ফ্রাঁ। আর সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। ২০২৫ সালে ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও ভুটানসহ কয়েকটি দেশ সুইস ব্যাংক থেকে অর্থ কমিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপের আমানত বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের  ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। বিগত সরকারের সময়ের সুবিধাভোগীদের একটি বড় অংশ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আওয়ামী লীগ সরকার ঘনিষ্ঠদের অর্থসম্পদ বাজেয়াপ্ত হতে শুরু হয়েছে। এতে অনেকে বিশ্বের এক দেশ থেকে অন্য দেশে অর্থ স্থানান্তর করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, একসময় গ্রাহকের গোপনীয়তার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিল সুইস ব্যাংকগুলো। তবে কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধে ২০১৮ সাল থেকে চালু হওয়া ‘অটোমেটিক এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন’ (এইওআই) উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটি এখন স্বচ্ছতার নীতির দিকে এগিয়েছে। এই তথ্য বিনিময় ব্যবস্থার আওতায় বিভিন্ন কর কর্তৃপক্ষ যাচাই করতে পারে, কোনো করদাতা বিদেশে থাকা তার আর্থিক হিসাব ও সম্পদের তথ্য কর রিটার্নে সঠিকভাবে উল্লেখ করেছেন কি না এ ব্যবস্থায় নাম, ঠিকানা, আবাসিক দেশের তথ্য, কর শনাক্তকরণ নম্বর, সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য, হিসাবের স্থিতি এবং মূলধনী আয়সহ বিভিন্ন আর্থিক তথ্য বিনিময় করা হয়।
২০২৫ সালে সুইস ফেডারেল ট্যাক্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফটিএ) এই বৈশ্বিক তথ্য বিনিময় কাঠামোর আওতায় ১০১টি দেশের সঙ্গে প্রায় ৩৪ লাখ আর্থিক হিসাবসংক্রান্ত তথ্য বিনিময় করেছে। আর অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) পরিচালিত ‘গ্লোবাল ফোরাম অন ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন ফর ট্যাক্স পারপাসেস’- এর মে ২০২৬ পর্যন্ত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখনো এইওআই কাঠামোয় যোগদানের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। অথচ প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান ইতোমধ্যে এই তথ্য বিনিময় ব্যবস্থায় অংশ নিয়েছে।

Share This Article