নতুন রোডম্যাপ নিয়ে যা বলছেন অর্থনীতিবিদরা

  নিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিতঃ রাত ০৮:১৯, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ২১ মাঘ ১৪৩০

নানা ধরনের ছাড় দিয়েও দেশের ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ কমাতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। বরং এসব ছাড়ের সুযোগ পেয়ে খেলাপি ঋণ আরও বেড়েছে। অথচ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশকে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে ব্যাংক খাতের খেলাপিকে ৮ শতাংশ নিচে নামিয়ে আনতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ১০ শতাংশ আর বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার শর্তও রয়েছে।

এজন্য ব্যাংক খাতে খেলাপি কমাতে ও ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ধরতে ১১ দফা রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে ব্যাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে আরও ৬ দফাও ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও এই রোডম্যাপ বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কার রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, উন্নত দেশগুলোতে অর্থঋণের বিষয়ে হাইকোর্ট কোন সিদ্ধান্ত জানায় না। বাংলাদেশে এই ধরণের প্রেক্টিস থাকার কারণে খেলাপিরা এই সুযোগ নিচ্ছে। তাই খেলাপি কমাতে কোর্ট, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে এক সাথে কাজ করতে হবে। না হয় খেলাপিদের দৌরত্ব্য কমানো যাবে না।
নতুন রোডম্যাপ কতটা কার্যকর হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইএমএফের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য নয়, দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে ও ব্যাংক খাতকে শক্তিশালী করতে নতুন এই রোডম্যাপের প্রয়োজন ছিলো। এখন দেখার বিষয় বাংলাদেশ ব্যাংক কতটা কার্যকর করতে পারে।

আর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসব উদ্যোগ মূলত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) কে দেখানোর জন্য। শর্ত পুরণ করতে না পারলেও তারা ব্যাংকগুলোকে কিছু বলে না। তবে খেলাপিদের ধরতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে রোপম্যাপ দিয়েছে এটা ভালো। অতীতে এই রকম যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো সেগুলো ছিলো কাগুজে। এটাও কাগুজে হবে কিনা তা নির্ভর করবে বাস্তবায়নে তারা সঠিক উদ্যোগ নিচ্ছে কিনা তার উপর।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক শক্ত হাতে কোন পদক্ষেপই বাস্তবায়ন করতে পারে না। যতটুকু শোনা যাচ্ছে অবলোপনের সময় কামানো হচ্ছে আবার ঋণ খেলাপির সময়সীমা ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৩ মাসে নামিয়ে আনা হচ্ছে। এগুলো করলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে। খেলাপি ঋণ না কমে আরও বাড়বে। ব্যাংকগুলোকে কিছু করতে বললেই তারা সময়ক্ষেপন করে। এটা পুরোনো রোগ। এদেরকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসা দরকার।
গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের ৪২৩ তম সভায় এসব কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। পরিচালক পর্ষদ তা অনুমোদনও দিয়েছে। পরিচালক পর্ষদের সভা শেষে এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু ফারহ নাছের।

ডেপুটি গভর্নর বলেন, ২০২০ সালের জুলাই মাসে ব্যাংক খাতে খেলাপি কমাতে আমরা ২-৩০ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দিয়েছিলাম। সে সময়ও ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট ছিলো। এই সুবিধা দেওয়ায় ব্যাংক খাতে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ফিরে এসেছিলো। এতে তারল্য সংকট কিছুটা কমেছে। যদিও এই পদক্ষেপে খেলাপি তেমন কমেনি বলেও জানিয়েছেন তিনি। পুনঃতফসিলের সিদ্ধান্তে খেলাপি না কমলেও নতুন রোডম্যাপের মাধ্যমে খেলাপি কমবে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই শীর্ষ কর্তা।

তিনি বলেন, খেলাপিদের ধরতে বাংলাদেশ ব্যাংক সব ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বিশেষ করে আগে খেলাপিদের চিহ্নিত করা হলেও ইচ্ছাকৃত খেলাপি চিহ্নিত করা হতো না। এখন থেকে নিয়মিত ঋণ পরিশোধ না করলে তাকে ইচ্ছা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এসব ঋণখেলাপিরা বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। তারা নতুন করে জমি বাড়ি গাড়ি কিনতে পারবেন না। নতুন ব্যবসাও খুলতে পারবেন না তারা।

আবু ফরাহ নাসের বলেন, ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ৮ শতাংশের নিচে নামানো হবে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশ এবং বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশে নিচে নামিয়ে আনা হবে। আর ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে সীমাতিরিক্ত, বেনামি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এবং জালিয়াতি অথবা প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ বিতরণের পরিমাণ শূন্যে নামিয়ে আনা হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কারা দুর্বল ব্যাংক তাদের ক্রাইটেরিয়া বর্ণনা করে দিয়েছে। যদি কোন ব্যাংক ওই ক্রাইটেরিয়ার মধ্যে পড়ে তাহলে ব্যাংকের ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের বার্ষিক প্রতিবেদন ধরে ২৫ সালের মার্চে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকের আমানত গ্রহণ, ঋন বিতরণসহ অনেক কার্যক্রম পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।

এজন্যই আমরা অনেক আগে থেকেই ব্যাংকগুলোকে জানিয়ে দিয়েছি। যাতে তারা নিজেদের আর্থিক অবস্থান উন্নতি করতে পারে। তবে যদিও কেউ উন্নতি করতে না পারে তাহলে অন্য ব্যাংকের সাথে মার্জ করে দেওয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমরা চাই না কোন ব্যাংক খারাপ করুক বা কোন ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়ে।

হাইকোর্ট থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে অনেক খেলাপি ব্যাংকের পরিচালক রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক কোন পদক্ষেপ নিবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কোর্টের আদেশের বাইরে গিয়ে কোন পদক্ষেপ নিতে পারে না। এটা সংবিধানে নেই। এজন্য কোন খেলাপির বিষয়ে যদি কোর্ট কোন আদেশ দেয় তাহলে আমরা পদেক্ষেপ নিতে পারবো না।

Share This Article

সম্পদ কমলেও ধনী তারকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন শাহরুখ

নতুন ধ্বনি

মূল্যস্ফীতি কমলেও ঋণ প্রবৃদ্ধি ধীর, রেমিট্যান্স ও রিজার্ভে ইতিবাচক ধারা

ছবি: নতুন ধ্বনি

ভুয়া নথি ও ব্যাক-ডেটেড চিঠির ছক: এস আলমের গোপন ইমেইল ফাইলের নথি প্রকাশ

নতুন ধ্বনি

আমানত বাড়লেও বড় ঝুঁকিতে দেশের ব্যাংক খাত

নতুন ধ্বনি

ল্যাব টেস্ট ছাড়াই ৪৩ কোটি টাকার বিল পরিশোধ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে!

নতুন ধ্বনি

আহমাদিনেজাদ কি ইসরায়েলের গুপ্তচর?

বিআইবিএমে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

গ্রাহকের বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা, দায় এড়াতে পারবেন না শরিয়াহ বোর্ড ও চেয়ারম্যান: গভর্নর

নিজস্ব তৈরি

এক বছরে শিল্প খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে লাখ কোটি টাকার বেশি

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের আমান বেড়ে ১২৭৬৩ কোটি টাকা

লোগো

আমানতকারীরা নিতে পারবেন বিনিয়োগ সুবিধাও


রমজান সামনে রেখে খেজুর আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব

জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত এনবিআর কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

ফাইল ফটো

দেশে রেকর্ড ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ

বাংলাদেশ ব্যাংক

ঋণ বিতরণে পিছিয়ে ১২ ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষে রবি আজিয়াটা

ছবি: সংগৃহীত

সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির শীর্ষে নিউলাইন ক্লোথিংস

ছবি: সংগৃহীত

আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক ফান্ডের সর্বোচ্চ দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ১৭০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন

ফাইল ফটো

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩৫ কর্মকর্তার লকার খুলছে আজ

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মকর্তাদের সব লকার স্থগিত

দেশে রপ্তানি আয়ে সুবাতাস, বেড়েছে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত

কাকরাইলে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ‘সিআরএম বুথ’ উদ্বোধন