বাড়ি-গাড়ি কিনতে পারবে না খেলাপিরা
খেলাপি ঋণ কমাতে ১১ দফা রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কোনো গ্রাহক ঋণ নিয়মিত পরিশোধ না করলে তাকে ইচ্ছাকৃত খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এসব খেলাপিদের বিভিন্নি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে। তারা নতুন করে জমি বাড়ি গাড়ি কিনতে পারবেন না, এমনকি নতুন ব্যবসাও খুলতে পারবেন না।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। পরিচালক পর্ষদের সভা শেষে এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু ফারহ নাছের।
তিনি বলেন, খেলাপিদের ধরতে বাংলাদেশ ব্যাংক সব ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বিশেষ করে আগে খেলাপিদের চিহ্নিত করা হলেও ইচ্ছাকৃত খেলাপি চিহ্নিত করা হতো না। এখন থেকে নিয়মিত ঋণ পরিশোধ না করলে তাকে ইচ্ছা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এসব ঋণখেলাপিরা বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। তারা নতুন করে জমি বাড়ি গাড়ি কিনতে পারবেন না। নতুন ব্যবসাও খুলতে পারবেন না তারা।
আবু ফরাহ নাসের বলেন, ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ৮ শতাংশের নিচে নামানো হবে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশ এবং বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশে নিচে নামিয়ে আনা হবে। আর ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে সীমাতিরিক্ত, বেনামি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এবং জালিয়াতি অথবা প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ বিতরণের পরিমাণ শূন্যে নামিয়ে আনা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কারা দুর্বল ব্যাংক তাদের ক্রাইটেরিয়া বর্ণনা করে দিয়েছে। যদি কোন ব্যাংক ওই ক্রাইটেরিয়ার মধ্যে পড়ে তাহলে ব্যাংকের ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের বার্ষিক প্রতিবেদন ধরে ২৫ সালের মার্চে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হবে।
এক্ষেত্রে ব্যাংকের আমানত গ্রহণ, ঋন বিতরণসহ অনেক কার্যক্রম পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে। এজন্যই আমরা অনেক আগে থেকেই ব্যাংকগুলোকে জানিয়ে দিয়েছি। যাতে তারা নিজেদের আর্থিক অবস্থান উন্নতি করতে পারে। তবে যদিও কেউ উন্নতি করতে না পারে তাহলে অন্য ব্যাংকের সাথে মার্জ করে দেওয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমরা চাই না কোন ব্যাংক খারাপ করুক বা কোন ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়ে।