সোনালী লাইফে হরিলুট
- ৩১৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে আইডিআরএ
- কোম্পানির অর্থে ঋণ সমন্বয়, বিজিএমইকে অনুদান, এসি ক্রয়, পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপহার, কুরবানির গরু ক্রয় ও ব্যক্তিগত খরচ, পরিবার সদস্যদের বিদেশ ভ্রমণ, আইপিও খরচের নামে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
- ৯ কোটি টাকা আত্মসাতে সিইও বিরুদ্ধে মামলা
- চেয়ারম্যানের ইন্দনে এমডিকে বহিস্কার
- বোর্ড ভেঙে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ আইডআরএর
পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত দেশের শীর্ষস্থানীয় নতুন প্রজন্মের বিমা কোম্পানি সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাশেদ বিন আমানের দ্বন্দ্বে কোম্পানির পলিসি হোল্ডার ও শেয়ার হোল্ডারদের সর্বনাশ। এই দুই জনের বিরুদ্ধে কোম্পানির অর্থ লুট পাটের অভিযোগ বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে মামলাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে। ছড়ানো হচ্ছে মিথ্যা নথিপত্রও। সর্বশেষ কোম্পানির চেয়ারম্যানের পদত্যাগের কারনে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। পাশপাশি কোম্পানিটির চলমান অস্থিরতার কারণে বোর্ড কেন ভেঙে দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
জানা গেছে, সোনালী লাইফের সাবেক চেয়ারম্যান বিরুদ্ধে ৩১৫ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে সরকারি একটি সংস্থা। অপরদিকে কোম্পানি সংশ্লিষ্টদের অভিযোগের ভিত্তিতে ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের কারণে সিইও রাশেদ বিন আমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এতে তার সহযোগি হিসেবে আরও ৬ জনকে আসামী করা হয়েছে।
আইডিআরএ তথ্য বলছে, সোনালী লাইফের চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাপক অনিয়মে দুর্বল হয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এক্ষেত্রে কোম্পানির এফডিআর ও সঞ্চয়ী হিসাবের বিপরীতে অর্থ তুলে চেয়ারম্যানসহ ৪ পরিচালকের শেয়ার ক্রয়ের মূল্য পরিশোধ, বোর্ডে পারিবারিক কর্তৃত্ব বজায় রাখতে চেয়াম্যানের পরিবারের ৪ সদস্যের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শেয়ার বিনামূল্যে হস্তন্তর, ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঋণের কিস্তি কোম্পানির হিসাব থেকে পরিশোধ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি ছাড়াই নিজের ফ্ল্যাট কোম্পানির কাছে বিক্রিসহ অন্তত ১৪ অভিযোগে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে আইডিআরএ। এমনকি কোম্পানির আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়োগ দেওয়া নিরিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজেও হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে সাবেক এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
এদিকে, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাশেদ বিন আমানের বিরুদ্ধেও অর্থ আত্মসাৎ ও হিসাব জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় রামপুরা থানায় মামলা হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা গেছে, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় সিইও রাশেদসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তারা হলেন- সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সিইও মীর রাশেদ বিন আমান, সাবেক এইআর অফিসার ফাতেমা তামান্না সুইটি, হিসাব বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা সুমি শেন, সাবেক হেড অব পারচেজ রাজেশ আইস, সাবেক হেড অব ফাইন্যান্স মো. বোরহান উদ্দিন মজুমদার, হিসাব বিভাগের সাবেক ম্যানেজার মো. শিপন ভূঁইয়া ও সাবেক হেড অব ইনভেস্টমেন্ট সুজন তালুকদার।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে হিসাব চাইলে রাশেদ কোনো সঠিক তথ্য না দিয়ে অফিসের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন ও পরবর্তীতে সঠিক হিসাব বুঝিয়ে দেবেন বলে জানান। একই সঙ্গে বলেন, যদি সঠিক হিসাব দিতে না পারেন এবং হিসাবে গরমিল থাকলে তা হলে মোট টাকা কোম্পানিতে বুঝিয়ে দেবেন। কিন্তু ওই দিনের পর থেকে রাশেদ অফিসে না গিয়ে এবং সঠিক হিসাব বুঝিয়ে না দিয়ে টালবাহানা করতে থাকেন। অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে জানতে রাশেদ বিন আমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও রং নাম্বার বলে রেখে দেন।
সোনালী লাইফের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ:
কোম্পানির এফডিআর’র বিপরীতে সাউথ বাংলা ব্যাংকে এসওডি হিসাব নং (০০০২৬২২০০০০৭৩) খুলে ঋণ গ্রহণ এবং ঋণ হিসাব হতে আট কোটি ৯৫ লাখ টাকা ও একই ব্যাংকে কোম্পানির সঞ্চয়ী হিসাব (০০০২১৩০০০০৩৩৪) থেকে এক কোটি ৫৫ লাখ টাকাসহ ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করে চেয়ারম্যানসহ ৪ জন পরিচালকের শেয়ার ক্রয়ের মূল্য পরিশোধ করা করা হয়েছে।
২০২২ সালে কোম্পানির বোর্ডে পারিবারিক কর্তৃত্ব বজায় রাখতে মোস্তফা গোলাম কুদ্দুছসহ ৪ জন সদস্যের নামে বিপুল সংখ্যক শেয়ার বিনামূল্যে হস্তান্তর করেছেন। ২০২৩ সালে ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ড্রাগন সোয়েটারের ঋণের কিস্তি হিসেবে মাসিক তিন কোটি টাকা কোম্পানির হিসাব থেকে জনতা ব্যাংকে পরিশোধ করেছেন মোস্তফা গোলাম কুদ্দুছ।
কোম্পানির জন্য ভবন ক্রয়ের নামে কোম্পানির এফডিআর’র বিপরীতে সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক থেকে ১৫২ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ এবং এজন্য ৩ বছরে প্রায় ১৫ কোটি টাকা সুদ প্রদান করা হয়েছে। যার অনুমোদন নেওয়া হয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে।
মোস্তফা গোলাম কুদ্দুছের প্রভাবে তার মালিকানাধীন ইম্পেরিয়াল ভবন কোম্পানি ৩৫০ কোটি টাকায় ক্রয়ের জন্য সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর এবং আইডিআরএ’র অনুমতি ছাড়াই ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ভবনের মূল্য বাবদ ৫৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা অবৈধভাবে প্রদান করে সোনালী লাইফ। একই সময়ে কোম্পানির তহবিল থেকে ৬১ কোটি ৬২ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করে চেয়ারম্যানের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া কোম্পানির পরিচালকরা অবৈধভাবে মাসিক বেতনভাতা হিসেবে ৩ কোটি ১৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা গ্রহণের বিষয় যাচাই এবং অনুরূপ বেতনভাতা গ্রহণ করেছেন।
আইডিআরএ’র সার্কুলার অমান্য করে কোম্পানির চেয়ারম্যানের জন্য ১ কোটি ৭০ লাখ কোটি টাকায় বিলাসবহুল গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৭-৩৬৯৫০) ক্রয় ও ২০২১-২৩ মেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ করা বিপুল টাকা ব্যয় করা হয়েছে। একই সময়ে চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের সদস্য পরিচালকরা কোম্পানির ঘোষিত লভ্যাংশের অতিরিক্ত লভ্যাংশ গ্রহণ করেছেন। এছাড়া কোম্পানির চেয়ারম্যানের বিদেশে চিকিৎসার যাবতীয় খরচ, নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ভ্রমণ, শপিং খরচ, বিদেশে পড়ালেখার খরচ অবৈধভাবে কোম্পানির তহবিল হতে নির্বাহ করা হয়েছে।
কোম্পানির পরিচালক শেখ মোহাম্মদ ড্যানিয়েলের (চেয়ারম্যানের মেয়ের জামাই) ব্যক্তিগত অফিস কোম্পানির ভেতরে থাকা, গ্রুপ বীমা পলিসি থেকে বড় অংকের কমিশন গ্রহণ এবং ঋণ খেলাপি হওয়ার কারণে ২০২০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে পরিচালক না হয়েও বোর্ড সভায় অংশগ্রহণ, সম্মানী-বোনাসসহ বিভিন্ন অবৈধ সুবিধা গ্রহণ এবং ব্যাংক হিসাবের সিগনেটরি ছিলেন। যা আইন অনুযায়ী অবৈধ।
মোস্তফা গোলাম কুদ্দুছ ২০১৪ সাল থেকে ব্যক্তিগত ঋণ সমন্বয়, বিজিএমইকে অনুদান, এসি ক্রয়, বিনোদন (পারিবারিক অনুষ্ঠান, বিবাহের উপহার), কুরবানির গরু ক্রয়সহ (২০২২ সালে) ব্যক্তিগত খরচ, ২০২২ ও ২০২৩ সালে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের বিদেশ ভ্রমণ ব্যয় ১ কোটি ৯২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা আইপিও খরচের নামে অতিরিক্ত ১ কোটি টাকা এবং পলিসি নবায়ন উপহার বাবদ নিজ প্রতিষ্ঠানের জন্য ১ কোটি ২৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ইত্যাদি গ্রহণ করেছেন। এছাড়া চেয়ারম্যানের মালিকানাধীন ১৫ তলা ইম্পেরিয়াল ভবনে বিভিন্ন অফিস/প্রতিষ্ঠান থাকলেও ভবনের সকল ইউটিলিটি বিল সোনালী লাইফ ইন্সু, কোম্পানি হতে পরিশোধ এবং ২০২১ সাল হতে পুরো ১৫ তলা ভবনের ভাড়া সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড থেকে আদায় করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ২০২১ সালে মোস্তফা গোলাম কুদ্দুছের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ড্রাগন সোয়েটার ও স্পিনিং লি: এর ট্যাক্সের ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা সোনালী লাইফ ইন্সু, কোম্পানি হতে পরিশোধ করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কুদ্দুছের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরে এসএমএসের মাধ্যমে জানান, এই মুহুর্তে আপনার সাথে কথা বলা সম্ভব নয়।
তথ্য বলছে, সরকারি একটি সংস্থার তদন্তে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান হুদা ভাসী চৌধুরী এন্ড কোং-কে গত ৩১ ডিসেম্বর নিয়োগ দেয়। পরে তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
আইডিআরএ বলছে, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান গত ৩ জানুয়ারি মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা অফিসে না থাকাসহ অন্যান্য কারণে তদন্তে ২০ দিন বিলম্ব করার আবেদন করেন। অন্যদিকে কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা একটি আবেদনে জানান যে, বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অন্যান্যদের কর্তৃক তিনি অফিসে প্রবেশে বাধাগ্রস্থ হচ্ছেন এবং তার অফিস তালাবদ্ধ করা হয়েছে। পরে তদন্ত কাজে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার ক্ষেত্রে কোন বাধা প্রদান না করার নির্দেশনা দিয়ে বোর্ড চেয়ারম্যানকে পত্র দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কিন্তু কোম্পানির বোর্ডের হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকে এবং বোর্ড সভা করে তদন্ত কমিটি গঠন, কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা এবং কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে।
আইডিআরএর চিঠিতে আরও বলা হয়, গত ২৩ জানুয়ারি হুদা ভাসী চৌধুরী এন্ড কোং কর্তৃপক্ষ আইডিআরএ’কে জানায় যে কার্য পরিধি অনুযায়ী তাদেরকে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সরবারহ করা হচ্ছে না, কোম্পানির কম্পিউটার বেইজড একাউন্টিং সিস্টেমে প্রবেশাধিকার দেয়া হচ্ছে না, সরবরাহকৃত ফটোকপির যথার্থতা যাচাইয়ের জন্য মূল দলিলপত্র দেয়া হচ্ছেনা এবং তদন্তকার্য পরিচালনায় বোর্ড আশানুরূপ সাহায্য সহযোগিতা করছে না। এসব ঘটনাকে তদন্ত বাধাগ্রস্থ করার প্রচেষ্টা বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এমন পরিস্থিতিতে সোনালী লাইফের বোর্ডকে কেন বহিস্কার করা হবে না তা জানতে চেয়ে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে বোর্ডকে লিখিত উত্তর দিতে বলেছে বীমা খাতের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী বলেন, সোনালী লাইফের বিরুদ্ধে অনেকগুলো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে আমাদের কাছে। এজন্য আমরা তাদের বিষয়ে ইতোমধ্যেই তদন্ত করছি। সুষ্ঠু তদন্ত হলে আমরা বুঝতে পারবো বিষয়টি আসলে কি? তদন্তে দায় দায়িত্ব নিরুপন করে তারপর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তে যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং বোর্ড এর জন্য দায়ী হয় তাহলে আমরা বোর্ড ভেঙ্গে দিতে পারি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, এমনিতেই আমাদের দেশে বীমা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নেতিবাচক অনেক আলোচনা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে একটি বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগ খুবই খারাপ। এতে বীমা গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া সোনালী লাইফ পুঁজিবাজারেও তালিকাভুক্ত। কোম্পানিটিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার প্রায় ৪০ শতাংশ। এভাবে চলতে থাকলে বিনিয়োগকারীরাও ঝুঁকিতে পড়বে। তাই বীমা কোম্পানিটির অস্থিরতা দুর করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে দ্রুতই পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান তিনি।