জয়-পুতুলসহ ১০ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ
সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ও শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, পুলিশ কর্মকর্তা, মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীসহ ১০ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের স্ত্রী, সন্তান ও পরিচালিত প্রতিষ্ঠানেও ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) আলাদা ৪ চিঠিতে এসব ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করতে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) সব ট্রাস্টি সদ্যের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টি বোর্ডে আছেন সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক এবং সাবেক বিদ্যুৎ, জালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। আগামী ৩০ দিন এসব হিসাবে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পরবে না। প্রয়োজনে লেনদেন স্থগিত করার এ সময় বাড়ানো হবে। তাদের লেনদেন স্থগিত করার এ নির্দেশের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হবে। ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঠানো চিঠিতে জয় ও পুতুলসহ সবার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেওয়া হয়েছে।
পৃথক অন্য একটি চিঠিতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ফারমার্স ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক চেয়ারম্যান ড. মহিউদ্দীন খান (ম খা) আলমগীর, তার স্ত্রী সিতারা আলমগীর এবং তাদের ছেলে জয় আলমগীরের ব্যক্তিগত ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের হিসাবের সব লেনদেন বন্ধ থাকবে। আগামী ৩০ দিন এসব হিসাবে কোনো ধরনের লেনদেন করা যাবে না। প্রয়োজনে লেনদেন স্থগিত করার সময় বাড়ানো হবে। লেনদেন স্থগিত করার এ নির্দেশনার ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হবে বলে বিএফআইইউয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে ম খা আলমগীর এবং তার স্ত্রী নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেওয়া হয়েছে।
অন্য এক চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান এবং তার স্ত্রী ও সন্তানদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের সদস্যের ব্যাংক হিসাব স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। হিসাব জব্দ করা হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী ওয়াজেদ শামসুন্নাহার এবং তাদের পুত্র–কন্যার ব্যক্তিগত ও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের হিসাবের সব লেনদেন বন্ধ থাকবে। চিঠিতে হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রাম ভিত্তিক বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদ ও তার সহযোগীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এতদিন ধরে এস আলমের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা নিয়ে গড়িমসি করে আসছিলো বিএফআইইউ’র সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে এরই মধ্যে অধিকাংশ টাকা তুলে নিয়েছে বিতর্কিত এই ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। তবে ওই অর্থ কোন খাতে ব্যবহার করা হয়েছে তার বিস্তারিত জানা যায়নি। যদিও ইতোপূর্বে এস আলমের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএফআইউর পক্ষ থেকে তার কোন ব্যাংক হিসাব নেই বলে উল্লেখ করেছেন সংস্থাটির তৎকালীন উপ-প্রধান রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, এস আলমের কোনো ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব নেই। আমরা এস আলমের কোনো ব্যক্তিগত হিসাব খুঁজে পাই নি।
বিএফআইইউর চিঠিতে বলা হয়, এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান, ওসমান গণী, আব্দুস সামাদ, শাহানা ফেরদাউস এবং বদরুন নেসা আলমের ব্যাংক হিসাব আগামী ৩০দিনের জন্য স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে এসব ব্যক্তির পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাবও স্থগিত থাকবে। অর্থাৎ এই সময় তারা কোন ধরণের লেনদেন করতে পারবেন না। প্রয়োজনে লেনদেন স্থগিত করার এ সময় বাড়ানো হবে।
অন্যদিকে, এস আলম সংশ্লিষ্ট রাজশাহী ভিত্তিক একটি শিল্প গ্রুপের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ তাদের স্বজনদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বলে জানিয়েছে বিএফআইইউ’র একটি সূত্র।
বিএফআইইউর নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো হিসাব স্থগিত করা হলে হিসাব-সংশ্লিষ্ট তথ্য বা দলিল (হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী) চিঠি দেওয়ার তারিখ থেকে ১ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের কাছে পাঠানোর জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলা হয়েছে।