১১ এনজিওর সাড়ে ১২ হাজার কোটি বিতরণ
দেশের গ্রাম ও শহরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি বৃহৎ অংশ প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ সুবিধা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত। তাদের একমাত্র ভরসা বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণগ্রহণ। যার জোগান দেয় এ দেশের এনজিও পরিচালিত ক্ষুদ্রঋণ ও বিভিন্ন বেসরকারি আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। গত এপ্রিলে শীষ ১১টি প্রতিষ্ঠান দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরে গ্রামীণ ব্যাংকসহ ১১টি ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ১২ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। যদিও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ কম। ২০২৩ সালের এপ্রিলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিলো ১২ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। এসব প্রতিষ্ঠানের বিতরণ করা ঋণের বেশিরভাগই দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ আদায়ের পরিমাণ ১৫ হাজার ৩০ কোটি টাকা।
উৎপাদনশীল গ্রামীণ কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো যেই কাজ করে যাচ্ছে তা প্রশংসার দাবিদার। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলো ৩ কোটি ৪১ লাখ গ্রাহক মোট ১৩ হাজার ১৭৮টি শাখার মাধ্যমে এই ঋণ সুবধা গ্রহণ করেছেণ। গত এপ্রিলে ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থাগুলো যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করেছে তার মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক এবং এএসএ এই ৩ প্রতিষ্ঠান ৭৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে।
তথ্য বলছে, বর্তমানে শীর্ষ ১১ এনজিওর ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১৭ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। এসব প্রতিষ্ঠানের বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার ১২ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গত এপ্রিলে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা বিতরণ করেছে এনজিও প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ আদায়ের পরিমাণ ৬ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। ব্র্যাকের বর্তমাণ ঋণের স্থিতি ৪১ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। আর বকেয়া ঋণ ১ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এনজিও প্রতিষ্ঠান আশা গত এপ্রিলে ঋণ বিতরণ করেছে ৩ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। এসময় প্রতিষ্ঠানটির আদায়কৃত ঋণ ৩ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। আর বকেয়া ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ঋণের স্থিতি ৩০ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা।
ঋণ বিতরণে তৃতীয় অবস্থানে আছে গ্রামীণ ব্যাংক। ব্যাংকটি গত এপ্রিলে বিতরণ করেছে ১ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির আদায়ের পরিমাণ ১ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। আর বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৪২১ কোটি টাকা। গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান ঋণের স্থিতি ১৬ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা।
চতুর্থ অবস্থানে আছে ব্যুরো বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৮৬১ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির আদায়ের পরিমাণ ১ হাজার ১১১ কোটি টাকা। আর বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৩৪১ কোটি টাকা। ব্যুরো বাংলাদেশের ঋণের স্থিতি ১০ হাজার ৫৮ কোটি টাকা।
এপ্রিলে ঋণ বিতরণে পঞ্চম অবস্থানে থাকা টিএমএসএস’র পরিমাণ ৬৯৬ কোটি টাকা। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির আদায় ৬৮৩ কোটি টাকা। আর বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৩৬৪ কোটি টাকা। আর বর্তমান ঋণের স্থিতি ৫ হাজার ৮১০ কোটি টাকা।