দেশের বাইরে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বেড়েছে ১৯ শতাংশ
তাৎক্ষণিক টাকার চাহিদা মেটাতে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করছে। গত দুই বছর থেকে এই কার্ড ব্যবহার বাড়ছে খুব দ্রুতই। এমনকি ডলার সংকটের কারণে মানুষ নগদ ডলার না নিয়ে দেশের বাইরেও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার বাড়িয়েছেন। আগের মাসের চেয়ে ডিসেম্বরে দেশের বাইরে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ। ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বিদায়ী বছরের নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বর মাসে দেশের বাইরে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বেড়েছে। নভেম্বরে দেশের বাইরে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন হয়েছিলো ৪৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আর বছরের শেষ মাসে দেশের বাইরে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে খরচ হয়েছে ৫৭৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে খচর বেড়েছে ৯২ কোটি বা ১৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এ সময়ে বাংলাদেশিরা ক্রেডিট কার্ডের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেছেন ভারতে। দেশটিতে আগের মাসের চেয়ে ব্যবহার বেড়েছে ৩২ দশমিক ৭২ শতাংশ। ডিসেম্বরে ভারতে বাংলাদেশিরা খরচ করেছে ১১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আগের মাস নভেম্বরে যার পরিমাণ ছিলো ৮৭ কোটি ১০ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগ দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করে দুই মাসের ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। এতে দেশের অভ্যন্তরে বিদেশী নাগরিকদের ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারের তথ্যও উঠে এসেছে।
তথ্য বলছে, গত ডিসেম্বরে দেশের অভ্যন্তরে বিদেশি নাগরিকরা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ১৮৪ কোটি টাকার কেনাকাটা করেছেন। আগের মাস নভেম্বরে যার পরিমাণ ছিলো ১৯৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ডিসেম্বরে সবচেয়ে বেশি ২৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা। দেশটির নাগরিকরা আলোচিত মাসে খরচ করেছেন ৪৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এরপরের অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা খরচ করেছেন ২৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতের নাগরিকরা খরচ করেছেন ১৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারের ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বেশি হয়েছে দেশের ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে। ডিসেম্বরে ক্রেডিট কার্ডে দেশের অভ্যন্তরে খরচের পরিমাণ ছিলো ২ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। এরমধ্যে ক্রেডিট কার্ড লেনদেনের পরিমাণ ৪৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক লেনদেন হয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোয়। এছাড়া আউটলেট থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ ইউটিলিটি, ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ নগদ অর্থ উত্তোলন, ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ পোশাক কেনাকাটা, ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ ওষুধ ও ফার্মেসিতে, ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ ট্রান্সপোর্টেশন, ২ দশমিক ১২ শতাংশ ব্যবসা সেবা, টাকা প্রেরণ করা হয়েছে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে।
লেনদেনে কার্ডের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভিসা কার্ডের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এ সময়ে। এর পরিমাণ ৭০ দশমিক ৪২ শতাংশ। এরপরেই রয়েছে মাস্টার কার্ড, এ কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ ১৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এছাড়া বাকি প্রায় ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ লেনদেন হয়েছে অন্যান্য কার্ডের মাধ্যমে।
এছাড়া দেশের ক্রেডিট কার্ডহোল্ডারদের ক্রস বর্ডার লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের মতো বিদেশেও একই ধরনের জায়গা ও প্রয়োজনে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার হয়েছে। ডিসেম্বরে বিদেশে প্রায় ২৮ দশমিক ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার হয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে। এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে টাকা উত্তোলনে ১৫ দশমিক ৬৬, ওষুধ ও ফার্মেসিতে ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ, পোশাক কেনাকাটায় ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ, ট্রান্সপোর্টেশনে ৬ দশমিক ৯৫ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ১৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ।