যুক্তরাজ্যের সিটি মিনিস্টারের পদ থেকে টিউলিপ সিদ্দিকের পদত্যাগ
- ২০১৫ সালে প্রথম যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন টিউলিপ সিদ্দিক।
- ২০২৪ সালে চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে জয় পান তিনি।
- গত বছরের জুলাই মাসে অর্থনীতিবিষয়ক মিনিস্টার হন।
- দুর্নীতির নানা অভিযোগের মধ্যে গতকাল পদত্যাগ করেন টিউলিপ সিদ্দিক।
যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইকোনমিক সেক্রেটারি (সিটি মিনিস্টার) হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী টিউলিপ সিদ্দিক দুর্নীতির একাধিক অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করেছেন। গত মঙ্গলবার তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করেছেন।
পদত্যাগের কারণ টিউলিপ সিদ্দিক জানিয়েছেন, তিনি কোনো ভুল করেননি, তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে, তার পদত্যাগ সরকারের মনোযোগের বিচ্যুতি হতে পারে। তিনি আরো বলেন, তার পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের দুর্নীতির অভিযোগ এবং অনিয়মের কারণে তার পদে থাকা সরকারের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা তিনি এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন।
বাংলাদেশে দুর্নীতির অভিযোগ বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর টিউলিপ সিদ্দিকের পরিবারের বিরুদ্ধে ৮০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। ওই সময়ে, ২০১৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য বাড়তি ব্যয় দেখিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করার অভিযোগ রয়েছে, যেখানে টিউলিপ সিদ্দিকের নামও উঠে আসে। এই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করেছে।
যুক্তরাজ্যে অবৈধ সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়, টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠদের কাছ থেকে বিনা মূল্যে একটি ফ্ল্যাট পেয়েছিলেন এবং কয়েক বছর ধরে সেখানে বসবাস করেছিলেন। এসব তথ্য সামনে আসার পর তাঁর পদত্যাগের জন্য চাপ বাড়ছিল।
পদত্যাগের পর প্রতিক্রিয়া টিউলিপ সিদ্দিকের পদত্যাগের পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে, তিনি মানসিকভাবে এ বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন ছিলেন।
নতুন দায়িত্ব টিউলিপ সিদ্দিকের পদত্যাগের পর এমা রেনল্ডসকে নতুন অর্থনীতিবিষয়ক মিনিস্টার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষণ এটি ছিল লেবার পার্টির দ্বিতীয় মন্ত্রী যিনি পদত্যাগ করলেন, গত সাত মাসের মধ্যে দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করায় স্টারমার সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।