ভারতে একদিনে ৩০ এমপি ‘বরখাস্ত’
পার্লামেন্টের ভেতরে প্ল্যাকার্ড দেখানোর কারণে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন ভারতের ৩০ সংসদ সদস্য (এমপি)। গত সপ্তাহে সংসদের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্যের দাবিতে পার্লামেন্টে (লোকসভা) বিরোধীদের বিক্ষোভ শুরু হয় সোমবার (১৮ ডিসেম্বর)। এর জেরে স্পিকার ওম বিড়লা তাদের সাময়িক বরখাস্ত করেন। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
চলতি শীতকালীন অধিবেশনে লোকসভা থেকে এসব এমপিকে বরখাস্ত করা হয়। এ তালিকায় রয়েছেন কংগ্রেসের অধীর রঞ্জন চৌধুরী। আগামী ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে লোকসভার শীতকালীন অধিবেশন।
এক প্রতিবেদনে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, তখন পর্যন্ত এই এমপিরা অধিবেশনে যোগ দিতে পারবেন না।
জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তৃতার মাঝেই নতুন সংসদ ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সরব হন বিরোধী এমপিরা। তুমুল চিৎকার শুরু হয় সংসদ কক্ষে। প্রথমে দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট, পরে তিনটা পর্যন্ত সভার কার্যক্রম মুলতুবি করে দেন স্পিকার। তার পরেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ৩০ সংসদ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এদের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ৯ জন রয়েছেন।
এর আগে সম্প্রতি ১৩ এমপিকে পার্লামেন্ট থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। সেই তালিকায় ছিলেন কংগ্রেসের ৯ জন। ওই সময়ও পার্লামেন্টের ভেতরে প্ল্যাকার্ড দেখানো ও আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেন স্পিকার ওম বিড়লা।
তার আগে গত ১৩ ডিসেম্বর ভারতের লোকসভার শীতকালীন অধিবেশন চলাকালে ঘটে তুলকালাম কাণ্ড। ভারতের পার্লামেন্টের দর্শক সারি থেকে ঝাঁপ দেন দুই যুবক। এরপর জুতা থেকে বের করে বিশেষ রাসায়নিক স্প্রে করে চারদিক ধোঁয়ায় ভরিয়ে দেন তাঁরা। এ ঘটনায় বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য দাবি করেন।
এরপর গত রোববার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ নিয়ে কথা বলেন। তিনি এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের শাস্তির দাবি করেন। তবে অমিত শাহের বক্তব্য না পাওয়ায় সোমবার পার্লামেন্টে সরকারবিরোধী প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাজির হন বিরোধীরা। এক সময় সেগুলো দেখাতে থাকেন তারা।